ফরিদপুরপ্রতিনিধি:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ গ্রামবাসীর মধ্যে ২ ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৪০ গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কিছু দোকানপাট, মাদরাসা, ইউনিয়ন পরিষদ ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জানা যায়, গত রোববার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাসচাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী বাবা ও মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক সন্দেহে পাশের বড় মুসকুন্নি গ্রামের তাইজুলকে মারধর করেন উত্তেজিত জনতা।
তবে পরে হামলাকারীরা জানতে পারে মারপিটের শিকার ব্যক্তি দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালক নন। এনিয়ে তখন দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে হামিরদি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ সালিশ হচ্ছিল। শালিস চলাকালে বড় মুসকুন্নি গ্রামের তাইজুল উত্তেজিত হয়ে মুনসুরাবাদ গ্রামের মউদুল ও তার লোকজনের উপর হামলা করেন। তখন মুনসুরাবাদ এলাকার আশপাশের চার গ্রাম এবং বড় মুসকুন্নি এলাকার ১১ গ্রাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের জানালা, দরজা, মাদরাসা, দোকানপাট ব্যাপক ভাংচুর করেন।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. জিয়ারুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষেই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঐ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
Leave a Reply